• Hobbies and Dreams

কেন বেলের শরবৎ? কিভাবে এই ফলের উৎপত্তি?


এ্যাগলে মারমেলস' হ'ল একটি দ্বিপদীয় নাম, কিন্তু, সাধারণত কাঠ-আপেল বা মারমেলস-ফল বেল' হিসাবে পরিচিত। সাধারণত, এই ফল-গাছটি ভারত ও বাংলাদেশ বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আঞ্চলিক উদ্ভিদ। এই ফল প্রথাগত ঔষধ বা খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এই ফলটি পাকতে 11 মাস সময় লাগে, প্রায়। বাইরের আবরণ খুব কঠিন। সুতরাং, এটিকে আঘাত হেনে ফাটানোর প্রয়োজন হয়। এই ফলটি বেশ সুস্বাদু এবং গন্ধ মিষ্টি, সুগন্ধযুক্ত এবং মনোরম। এর কিছু ভিন্ন ভিন্ন প্রকার আছে। লোমযুক্ত অনেক বীজ একটি পাতলা তরল পদার্থ বা একটি আঠালো পদার্থের মধ্যে encapsulated হয়ে থাকে। এই ফলটি গাছ থেকে পেড়ে, তাজা খেয়ে ফেলাা যায় কিংবা, 'শরবত' বা 'বেলপানা' ও তৈরি করা যেতে পারে। বেল-পানা প্রায় সব বাড়িতেই খুবই জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পানীয়। এই ধরনের পানীয় বিশেষত 'ওড়িয়া নিউ ইয়ার' এবং 'বাংলা নববর্ষ' উপলক্ষে এপ্রিল মাসে গুরুত্বপূর্ণ আনন্দদায়ক পাানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। টাটকা পনির, দুধ, জল, বেলের শাঁস, চিনি এবং গুঁড়োকরা কালো পিপার - এই 'বেল-পানার প্রধান উপাদান; আপনি যদি বরফের উপর এটি রেখে, ঠাণ্ডাা করে আস্বাদ নেন, ব্যপারটা বেশ জমে যাবে।

উড্-আপেলের বা বেলের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার:

1. কোষ্টকাঠিন্য নিয়ন্তত্রণ করার জন্য: - যযথেষ্ট ফাইবার সমৃদ্ধ এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্যটি কোষ্ঠকাঠিন্যের খুব কার্যকরভাবে চিকিত্সা করে এবং ভাল ফলাফল প্রদান করে। যদিও কলা, আমের মতো ফল কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা-জর্জর মানুষগুলোকে, এ ব্যপারে সাহায্য করে, বেল ফলও আশ্চর্যজনক ফলাফল দেয় এই সমস্যায়। নিয়মিতভাবে খেলে, কোষ্ঠকাঠিন্যে বেল, যা ফাইবার পূর্ণ এক ফল, অসীম সুফল প্রদান করে।

2. ডায়াবেটিসে উপশমের জন্য: - এই ফল ডায়াবেটিকদের জন্য মহান, কারণ, এটি ইনসুলিন স্তর স্থিতিশীল রাখে এবং অনেক ডাক্তার এবং পুষ্টিবিজ্ঞানী ডায়াবেটিসের জন্য এটি সুপারিশ কররেন। এছাড়াও, এই ফলের পেটকে স্থিতিশীল রাখার একটি মসৃণকরণ প্রভাব আছে।

3. চুল ও চামড়ার জন্য: - ত্বক এবং চুল সুস্থ রাখার জন্য, প্রদীপ্ত অবস্থায়, আমরা বেল ফলের রস/শরবৎ গ্রহণ করতে পারি। এটি ত্বক এবং চুল সুস্থ ও চকচকে রাখে। এটি ডায়রিয়া, ঝাঁকুনি এবং আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে প্রতিরোধ করতে পারে।

প্রসেস:

ফল কাটার পরে, ভিতরের থেকে pulps সংগ্রহ করে, জল মধ্যে ধীরে ধীরে থেঁতলে মেশাতে হবে। খানিক চিনি যোগ করাটা ঐচ্ছিক। পছন্দ, স্বাদ অনুযায়ী, চিনির পরিমাণ বিভিন্ন হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, এটা বিভিন্ন মানুষের এবং তাদের পছন্দগুলির উপর নির্ভর করে । মূল ব্যপারটা হল: আমরা এতে প্রচুর খাদ্য-মূল্য বিশিষ্ট একটি পানীয় পান করব। (খুব সহজ!!)

বেলের প্রতি 100 গ্রামে খাদ্য উপাদান: নিম্নরূপ

1. আর্দ্রতা = 61.5%

2. প্রোটিন = 1.8%

3. কার্বোহাইড্রেট = 31.8%

4. ফাইবার = 2.9%

5. ক্যালসিয়াম = 85 মিলি

6. ফসফরাস = 50 মিলি

7. লোহা = 2.6 মিলি

8. ভিটামিন C = 2ml

9. শক্তি = 137cal এছাড়াও সামান্য পরিমাণে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

ঔষধ ও খাদ্যরূপেে ব্যবহারের পাশাপাশি গাছ, তার ফল এবং এর পাতাগুলিও দেবীর এবং কিছু দেবতার পূজাকালে ধর্মীয় গুরুত্ব পায়। বেল পাতা প্রার্থনার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়। বেশ কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ফল, পাতা এবং কাঠের সঙ্গে গাছও ব্যবহার করা হয়; দুর্গাপূজা চলাকালীন, দেবী দুর্গা প্রথমে একটি বেল-গাছের-এর নিচে অধিষ্ঠান করেন, যাতে ফল থাকবে। বেল ফল 'শ্রী-ফল' নামেও পরিচিত। 'ঋগ্বেদ' এর শ্রী-সুক্তমে, এই নাম, 'শ্রী-ফল' এর ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ধর্মীয় ব্যক্তি বলেন, এই ফল গাছটি লক্ষ্মী দেবীর সাথে সম্পর্কিত। আমরা যখন বেল-পানা পান করি, তখন আমরা একই সময়ে সন্তুষ্টি বা পরিতৃপ্তি উপভোগ করি।

এই ফলের উৎপত্তি কোথায়? পুরাণের সময়কালে, মহামতি 'দ্রোণ ও তাঁর স্ত্রী ধরা' নামে এক দম্পতির অবস্থান ছিল। তাঁঁরা ছিলেন খুব দরিদ্র এবং দরজায় দরজায় ভিক্ষা করে তাঁদের জীবন নির্বাহ করতেন। তাঁরা উভয়েই ঈশ্বরের কাছে উৎসর্গীকৃত ছিলেন। একদিন, ভগবান বিষ্ণু ছদ্মবেশে তাঁর নিকটবর্তী ভক্ত মুণি নারদকে সঙ্গে করে তাঁদের পর্ণ-কুটিরে আসেন। সেই সময়, ভিক্ষা করার জন্য দ্রোণ ছিলেন অন্যত্র; মা ধরা 'একা ছিলেন তাঁদের পবিত্র ঘরে । সেখানে পৌঁছে, ভগবান বিষ্ণু খাদ্য প্রার্থনা করেন। মা ধরা 'দুজন অতিথি পেয়ে ভীষণ আনন্দিত হন। তিনি ছিলেন যথার্থ অতিথি-বৎসসল মহিলা। তিনি আগন্তুকদের বিিশ্রাম নিতে বলেন। সেই সময়, দ্রোণ ভিক্ষা করে খুব অল্প পরিমাণে শস্য সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরে আসেন এবং তিনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ভগবান বিষ্ণুর আদেশে, নারদ মুনি দ্রোণের ভিক্ষাঝুলি থেকে সব ভিক্ষালব্ধ শস্য চুরি করেন। দ্রোণ ফিরে আসার পর, মা ধরা 'ব্যাগটি খুঁজে দেখেন, সেটি খালি । দ্রোণ খুুব ক্লান্ত ছিলেন, তাই, ধরা মা তাঁদের অপেক্ষারত অতিথিদের জন্য কিছু শস্য সংগ্রহ করার জন্য নিজেই ভিক্ষায় বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু, তিনি কিছু সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হন।এই সময় ভগবান শিব, ভগবান বিষ্ণুর আদেশ ক্রমে একজন মুদি হিসাবে অপেক্ষায় ছিলেন। যখন সতী ধরা মা সেখানে পৌঁছান এবং তাঁর অতিথিদের জন্য কিছু খাদ্য শস্যের জন্য অনুরোধ করলেন, ভগবান শিব বিনিময়ে বিনিময় কিছু চান মুদি হিসাবে। ধরা-মা বললেন, তাঁর কিছুই দেওয়ার মতো নেই। ভগবান বিষ্ণুর নির্দেশ অনুযায়ী ভগবান শিব বিনিময়ে তাঁর স্তন চেয়ে বসেন। সেইকালে, অতিথিদের মানুষের জীবনে মহান গুরুত্ব ছিল। ধরামা বাড়িতে ফিরে আসেন কারণ তিনি জানেন যে তিনি তাঁর স্বামী, দ্রোণের কাছে সবকিছুই আত্মসমর্পণ করেছেন। ' অন্যদিকে, মহান দ্রোণ 'এই ঘটনাবলি শুনে, তাঁকে মুদির কাছে তার প্রস্তাব মতো বস্তু দিতে বলেন। কারণ, তিনি জানতেন, শরীর শাশ্বত নয়। মা ধরা-সতী ' ফিরে গিয়ে তাকে বলেন যে, সে তাঁর স্তন দিতে রাজি আছেন, কিন্তু মায়ের অনুভূতিতে। যদি মুদি তাঁর সন্তানের মতো তার স্তনটি গ্রহণ করতে পারে তবে সে তা গ্রহণ করতে পারে। মহান প্রভু শিব সম্মত হন এবং মা ধরা-স্তনটি 'তাঁঁর হাতে সমর্পণ করেন। এইভাবে, তিনি ভগবান বিষ্ণুর কঠিন পরীক্ষায় ঊত্তীর্ণ হন এবং তাঁর পবিত্র স্তনটি, দেবাদিদেব শিবের ইচ্ছাক্রমে বেল-গাছের সৃষ্টি করে। সুতরাং, এই ফল মানুষের খাদ্য হিসাবে মানুষকে পরিতৃপ্তি দেবে, এ আর নতুন কি ?

দ্বাপর-যুগে, এই মহান মাতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মা হিসেবে স্তন পান করিয়েছেন। তাঁকে অর্থাৎ, ভগবান বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণকে প্রশান্তি দিয়েছেন।

ভিডিও:


© 2027 By Hobbies and Dreams Proudly created by Hobbies and Dreams

  • Twitter Social Icon
  • Pinterest Social Icon
  • Instagram Social Icon
  • Facebook Social Icon
  • YouTube Social  Icon