• Hobbies and Dreams

অযোধ্যা-পাহাড়কে ছুঁয়ে দেখা


ডিসেম্বরের শুরুতে আমরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে অযোধ্য-পাহাড়ে গিয়েছিলাম। এই জায়গাটি শীতের মরসুমের আগে এবং পরে দেখার উপযুক্ত। এটি একটি গরম এলাকা হিসাবেই পরিচিত, তাই, গ্রীষ্মের মরসুমে এই স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন না। আমরা সৌভাগ্যক্রমে আমাদের ছেলের স্কুলের পর্যটক-দলের মধ্যে প্রবেশ করেছিলাম।

এই পাথুরে জমিতে, গ্রীষ্মের প্রভাব খুব বেশী। তাই, গ্রীষ্মের সময়কালে অযোধ্যা-পাহাড়টি ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিলে, যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত হবে না। শীতকালের আগে এবং পরে দেখার জন্য নিখুঁত সময় হবে। শীতকালে মাঝখানেও এড়ানো উচিত। এই সময়, অহোধ্য পাহাড়টি পাথুরে-ঠান্ডায় মুড়ে নেয় নিজেকে, ফলে, সহজেই আবিষ্কারযোগ্য হবে না।

ভৌগোলিকভাবে, এই অযোধ্যা-পাহাড়টি "ছোট-নাগপুর" মালভূমি এবং পূর্ব ঘাট পর্বতমালার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এই পাহাড়টি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলা পুরুলিয়াতে অবস্থিত। অযোধ্য-পাহাড়ের এই এলাকা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর 'সাঁওতাল' শ্রেণীর মানুষের দ্বারা অধ্যুষিত। তবে, কেবলমাত্র সাঁওতালরা নন, 'সমাজের অন্য পিছিয়ে-পড়া শ্রেণির মানুষেরাও এখানে বসবাস করেন।

স্থানীয় মানুষজনের জীবনযাত্রা মূলত চাষাবাদ এবং পশুপালন। এসবের পাশাপাশি, স্থানীয় বনভূমির কাঠের সংগ্রহ রয়েছে ; যা তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। তাঁরা তাদের জীবিকার প্রয়োজনে হাঁস, মুরগি, গরু এবং ছাগলছানা পোষেন। তাঁদের বাড়িগুলি একটি অসাধারণ সৃজনশীলতার নমুনা। তাঁরা তাদের প্রিয় বাড়িতে মসৃণ প্রভাব প্রদান করার জন্য একটি এমন কিছু জিনিস ব্যবহার করেন; ও তাদের বাড়ির রং দিয়ে রঙিন করেন, যে, এক একটি পাকা ঘরের মত লাগে ও দৃষ্টি বিভ্রম সৃষ্টি করে।

তাদের স্কুল, খেলার মাঠ, বিশাল বন এবং মাথার উপর একটি বড় আকাশ আছে। আমাদের ভ্রমণের সময়, আমরা তাদের চাষ জমিতে ধান, গম, ভুট্টা, বাজরা ইত্যাদি দেখতে পেয়েছি।

অযোধ্যাহিল, বাগমুন্ডী-পাহাড় ইত্যাদি পর্যটকদের পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। এই এলাকায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে জল সংরক্ষণের জন্য কিছু বাঁধ নির্মিত হয়েছে। এটি সবই জানেন যে, জলবিদ্যুৎ মানুষের জীবনের অন্যতম বিকল্প উৎস। অযোধ্যায়-পাহাড় ভ্রমণের সময়, আমরা প্রভু রাম ও সীতা-দেবীর মন্দিরটি পেয়েছিলাম; আরেকটি মন্দির এখানে আছে, যেখানে দেবীমা তাঁর হাতে আগুনের এক অবিরাম প্রজ্বলিত শিখা ধারণ করে আছেন। এই শিখা অনির্বাণ, জীবনের প্রতীক। এই মন্দিরবাইরে থেকে, একটি একটি স্থানীয় ঘরের মতোই লাগে; ভেতরে গেলে স্তম্ভিত হতে হয়। যে দৃশ্য মন্দিরের বাইরের সাথে মেলে না। । আমরা যখন প্রবেশ করলাম, তখন আমরা আধ্যাত্মিক এক পরিবেশ আবিষ্কার করলাম ...

অন্য আরও স্থানীয় সংস্কৃতির মতো, "ছৌ" -নৃত্য পুরুলিয়া জেলার উল্লেখযোগ্য সংস্কৃতি। "ছৌ" একটি বিশেষ ধরনের লোক নৃত্য যা পুরুলিয়া এবং স্থানীয় এলাকার অন্য একটি পরিচয়। যদি আপনি আগ্রহী হন, তবে আপনি সেই স্থানে যাওয়ার জন্য আপনার ড্রাইভারকে নির্দেশ দিতে পারেন, যেখানে "ছৌ"-নৃত্যের যন্ত্রগুলি তৈরিহচ্ছে। অযোধ্যা-পাহাড়ের স্থানীয় জনগণের জীবন একটি এমন জীবন-শৈলী তুলে ধরছে, যা আজকের শহর-জীবনের পাশাপাশি সমান্তরালে বহমান। তারা তাদের হাতে সমস্ত সভ্য উপকরণ বহন করে, কিন্তু, তাদের জীবনের প্যাটার্ন কিছু ভিন্ন। বন এবং পাহাড়ের সাথে মিশ্রণে এটি মিশ্রিত হয়ে এক অন্যরকম জীবনকে চেনায়। আমরা একটি অঞ্চল দেখেছি, যেখান থেকে, পাহাড়ের পাথর সংগ্রহ করা হয় এবং আমাদের সভ্যতার আকৃতি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এই পাথর কাটা / সংগ্রহ এখানকার স্থানীয় জীবনযাপনের অন্য একটি জীবনধারা / অকুপেশনের সাথে আমাদের পরিচয় করায়। পুরুলিয়া / অযোধ্যা-পাহাড়ে, আমাদের ভ্রমণকালে, আমরা সবচেয়ে সৌন্দর্যময় প্রকৃতি পেয়েছি জলপ্রপাতের ওখান। বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ঝর্ণাটি যেন জীবন-সঙ্গীত গাইছে, কোনও এক আত্ম-ভোলার মতো, লোকচক্ষুর অন্তরালে ।

#AyodhyaHill #Purulia #Nature #Waterfall #Tour #Bengal #India

© 2027 By Hobbies and Dreams Proudly created by Hobbies and Dreams

  • Twitter Social Icon
  • Pinterest Social Icon
  • Instagram Social Icon
  • Facebook Social Icon
  • YouTube Social  Icon