(adsbygoogle=window.adsbygoogle ।।{}).push({ google_ad_client:"ca-pub-2524552414847157", enable_page_level_ads: true }) (adsbygoogle=window.adsbygoogle ।।{}).push({ google_ad_client:"ca-pub-2524552414847157", enable_page_level_ads: true })
 

হাজার দুয়ারী' প্রাসাদ - মুর্শিদাবাদ


প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত মুর্শিদাবাদের পথে রওনা হওয়ার আগে, অনেকের মনে একটা আশার ক্ষীণ আলো উঁকি মারে, যে, সিরাজউদ্দৌল্লার স্মৃতি-বিজড়িত কিছু দেখতে পাবেন, ওখানে গিয়ে। বাস্তবটা কিন্তু সে পথ দিয়ে হাঁটে না। বস্তুতঃ সিরাজউদ্দৌল্লার স্মৃতি-বিজড়িত সেই মূল প্রাসাদটিও আর নেই; নদীবক্ষে তলিয়ে গিয়েছে।

তাঁর আমলের কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের লালসায় বিদীর্ণ যে ইতিহাস সারা ভারতের ললাট লিখনকে একদিন কলুষিত করেছে, তারই নিদর্শন তথা স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে মুর্শিদাবাদের বুকে হাজারদুয়ারি' নাম নিয়ে এই প্রাসাদ আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে।

যদি, স্থাপত্য-শৈলীর কথা বলা হয়, নিঃসন্দেহে এই হাজারদুয়ারি' প্রাসাদ এক অনন্য সৃষ্টিশীলতার নমুনা হিসেবে বিবেচিত হ'তে পারে। তবে, অধিকাংশক্ষেত্রে যেমন হয়, তেমনিই, এখানেও camera বা mobile কিছুই নিয়ে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি নেই। অনেকটা দুরে, এক জায়গায় সব জমা করে, তবে, এই প্রাসাদে প্রবেশ করা যায়।

এই প্রাসাদটি নির্মান করেছিলেন architect Colonrl Duncun Macleod উনবিংশ শতাব্দীতে, বাংলা-বিহার-ওড়িশার নবাব নাজিম হুমায়ুন জাহ্-র সময়ে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ৯ই আগস্ট, ১৮২৯ কাজ শেষ হয় ডিসেম্বর,১৮৩৭ । বলাহয়, এই প্রাসাদের স্থাপত্য-রীতিতে Italian Style চোখে পড়ে। ৮০ ফুট উচ্চতার এই প্রাসাদটিকে বর্তমানে Archaeological Survey of India ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার অধিগ্রহণ করেছে (১৯৮৫)। এই প্রাসাদটি লম্বায় ১৩০ মিটার ও চওড়ায় ৬১ মিটার। ৩টি তলব্যাপী এই প্রাসাদে অনেক কিছুই দেখতে পাওয়া যায়, তবে, আর পাঁচটা প্রাসাদের সঙ্গে এই প্রাসাদের খুব একটা তফাৎ চোখে পড়েনা। কেবলমাত্র এর অসংখ্য দরজার উপস্থিতি ছাড়া। আর, এই বৈশিষ্টের কারণেই এই প্রাসাদ হাজার দুয়ারী' নামে পরিচিতি পেয়েছে।

অনেকরকমের যুদ্ধাস্ত্র, দামী ধাতুনির্মিত বাসনকোসন, বিলাসদ্রব্য, আয়না ইত্যাদি ছাড়াও, তৎকালীন নবাবদের ব্যবহৃত হাতির দাঁতের কারুকার্য্যখচিত জিনিসপত্র ইত্যাদি এখানে রয়েছে। যেমন - আতরদানি, পানের বাটা, রত্নপেটিকা ইত্যাদি। এছাড়া, কিছু সুন্দর তৈলচিত্রও রয়েছে। তবে, অগাধ বৈভবে ঠাসা রাজ দরবারে যতটা শিল্প-রুচীর প্রত্যাশা থাকে; তা এখানে অনুপস্থিত।

এই প্রাসাদে বর্তমান কিছু মুর্তি অন্যান্য সামগ্রী - কেবলই ভোগ-লালসা ও পারস্পরিক সন্দেহের, বিশ্বাসহীনতার তৎকালীন বাতাবরনকে তুলে ধরে - বেশ প্রকটভাবে।

যেহেতু এই প্রাসাদে camera বা mobile phone allowed নয়, সেক্ষেত্রে, এর বাইরের দৃশ্য দিয়েই camera বা mobileকে সমৃদ্ধ করে নেওয়ার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। এমনিতেই, বাইরের দৃশ্য বেশ সুন্দর ও selfie সহায়কও।

পুরানো ঐতিহ্যের এই শহরে, টাঙ্গাগাড়ি চড়ে যখন প্রাসাদের সামনে আসছেন, আপনার বেশ ভালোই লাগবে। প্রাসাদের বাইরের দৃশ্য কিন্তু বেশ মনোরম।

টাঙ্গাগাড়ির সহিসের বারম্বার সাবধানবাণী এড়িয়েও, আপনি এখানে guide নিতে পারেন - (১) যদি আপনার হাতে যথেষ্ট সময় থাকে; (২) যদি ছোট গ্রূপে বা পারিবারিকভাবে এই বেড়ানোয় আপনি অংশীদার হয়ে থাকেন। না-হলেও ক্ষতি নেই অবশ্য। ভেতরে সব জায়গাতেই ভালো করে লিখে বর্ননা করা রয়েছে। একা একা বেড়ানোর মজা নেওয়াও সম্ভব এখানে। যার যেমনটা সুবিধা!!

#hazarduari #Palace #ThousandDoorPalace #TravellingMurshidabad #murshidabad

Recent Posts